Monday, April 24, 2017

ছায়াচ্ছন্ন -- কৃষ্ণাঞ্জন


শিয়ালদহ থেকে লক্ষ্মীকান্তপুর লোকালে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক। স্টেশনের নাম মথুরাপুর। সেখান থেকে অটো ধরে খটিরবাজার। তারপর ভ্যান-রিকশোতে সাতঘড়া গ্রামের তালপুকুর। আমার ছোট পিসির বাড়ি। গত পুজোয় একাদশীর দিন গিয়েছিলাম, প্রায় অনেক বছর পরে। না, আমাকে শিয়ালদহ থেকে ট্রেন ধরতে হয় না। আমার বাড়ি মথুরাপুরের তিনটি স্টেশন আগে। দক্ষিণ বারাশত। কিন্তু এই তালপুকুর গ্রামের অনেকে সেটাকেই শহর ভাবে।

দুপুর নাগাদ খটিরবাজারে পৌঁছে ভ্যানে চেপেছি। ইট বিছানো রাস্তা। রাস্তার পাশে ঘন বাঁশবন, ‘সবুজ হলুদ সর পড়া পুকুর’ ঝিম মেরে আছে। ছোটবেলায় মা-বাবার সাথে বেশ ঘটা করে আসতাম, রাস্তাগুলো সব আবছা মনে পড়ছে। অনেকদিন পর নিজের বাড়িতে ফেরার মতো লাগছে। যেতে যেতে একটা কুমোর-পাড়া পড়ে, রোদে দেওয়া মাটির কলসি, মিষ্টির ভাঁড়। খুব মনোযোগ দিয়ে ছোটবেলায় এগুলো বানানো দেখতাম - বন বন করে চাকা ঘুরছে আর এক বুড়ো নিপুণ হাতে একটা কলসি বানিয়ে ফেলছে। একটা বড় মুসলিম-পাড়ার পরেই রাস্তার বাঁক, বাঁক পেরিয়ে ভ্যানটাকে দাঁড়াতে বললাম। পিসি দাঁড়িয়ে, পিসির ছেলেরা দাঁড়িয়ে, প্রতিবেশী আরও কয়েকজন দাঁড়িয়ে। ভ্যান থেকে নামতেই অর্ধেক-চেনা মুখে হাসি এক মহিলার- “কতো বড়ো হয়ে গেছিস বাবা... আমায় চিনতে পারিস?” কিছু বলার আগেই পিসির ছেলেরা এসে পড়লো। ওরাও বড়ো হয়ে গেছে। প্রায় হাত ধরে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে গেলো। আগে মাটির বাড়ি ছিলো। দাদা চাকরি পেয়ে পাকা বানিয়ে নিয়েছে, ইলেক্ট্রিসিটিও এসেছে। প্লেট-ভর্তি খাবার সাজিয়ে নিয়ে এলো বৌদি, পিসি মাটির উনুনে রান্নায় ব্যস্ত, দেশি মোরগের ঝোল খাব আগেই বলে রেখেছিলাম।

কোনওমতে লুচিগুলো খেয়ে হাঁটতে বেরলাম সেজো ছেলেটির সাথে। অদ্ভুত ভাবে এই ভেতরের রাস্তাগুলোও মনে আছে আমার। মাটির রাস্তা, চারদিকে ঘন সবুজ গাছপালা, নিশ্চিন্দিপুরের থেকে একেবারেই আলাদা করা যায়না। হঠাৎ রাস্তা শেষ, বিশাল ধান-জমি। দাঁড়িয়ে পড়লাম ওখানেই। এটা-ওটা গল্পের মধ্যেই পাশের মুসলিম-পাড়ার কথা উঠলো, কারণ বাইরে তখন যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব। মুসলিম-পাড়ার সবাই নাকি আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সমর্থক।


আবহাওয়ার খবর -- সৌভিক

উৎস

আজ সারাদিন প্রধানত মেঘলা আকাশ
বিকেলের দিকে আপনার ঘর ও বারান্দায়
মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা।
বাসন্তী রঙের ওড়না জড়ানো মেয়েটা
নীল রঙের গাড়ীতে চেপে অফিসে চলে যাবে,
জানলা দিয়ে তার গম্ভীর মুখটা দেখে
মেঘ জমবে আপনার বাড়ির গলিতে;
মনে হবে ওই ওড়নাটা জড়িয়ে
মেয়েটা সাইকেল চালালে বা দুপুরবেলা
লোকাল ট্রেনের জানলার ধারে বসলে
বেশি মানাত।
বিকেলের বিমানে মেয়েটা পাড়ি দেবে পশ্চিমে
অনির্দিষ্টকালের জন্য, শহরের আকাশে
ভিড় করবে কিউমুলোনিম্বাসরা;
রাতে যখন বিমান আবু ধাবির মাটি ছোঁবে
আপনার ঘরে তখন ঝোড়ো হাওয়ার সাথে
বজ্র-বিদ্যুৎসহ ভারী বর্ষণের সতর্কতা।
খবর আপাতত এই পর্যন্তই।

Monday, April 17, 2017

The Lens Connection 1 -- Pubarun

Click on the photos for full-screen viewing...





Monday, April 10, 2017

নায়িকা-সংবাদ -- সৃজিতা


উৎস
বাসকসজ্জা

ফসলের কণা ঘিরে আয়োজন কৃষকের তূণে।
লোধ্ররেণু, লিপস্টিক, পূর্ণ হয়েছে প্রসাধন...

অচিরেই দেবদূত ভেঙে দেবে শস্যের ঘর

বিপ্রলব্ধা

‘বঞ্চনা’ শব্দ জুড়ে বেড়ে ওঠে শিকড় বাকড়

স্থানকালপাত্ররা পৃথিবীর পরিধি মাপেনি।
মোহনবাঁশির স্নেহে ভেসে এসেছিলো আশ্বাস...

সিম-কার্ড বুঝে নিক খোলস ছাড়ার কথকতা,
ফেলে আসা ফোন রাখে মৃত শহরের দিনলিপি

উৎকণ্ঠিতা

‘পন্থ নেহারি’ রাই, নিভে আসে দ্রুত চরাচর।
প্রলয়ের কাল বুঝি ছুঁয়েছিলো এত ব্যাকুলতা।
সংকেত ভুলে গেলে.. রিংটোন থাকবে তো মনে?


বিবর্তন -- ঊর্মি

উৎস


আমার আদরের ভাইপো গুল্লুবাবু সবে দু’বছরে পা দিলো। আমি তাকে ডাকি ‘গুল্লাই’ বলে আর সে তার আধো আধো স্বরে আমায় বলে ‘পিপি’ - আসলে বলে “হ্যালো পিপি!!”। ওরা থাকে মুম্বাইতে, আর যবে থেকে গুল্লাই এর মোটামুটি জ্ঞান হয়েছে, আমি এই সুদূর বিদেশে। আমার দুঃখ ছিলো যে ও হয়তো আমাকে চিনবেই না - কিন্তু মোবাইল ফোন এর দাক্ষিণ্যে সে চিন্তা আর নেই। যদিও কিছুদিন অন্তত মোবাইল আর পিপি হয়তো ওর কাছে সমার্থক হয়ে থাকবে - সে থাক, ক্ষতি নেই। আমরা যখন গুল্লুর বয়সী ছিলাম তখন তো বাড়িতে ফোন বলে কিছুর অস্তিত্বই ছিলো না। একটু বড় হতে সামনের বাড়িতে ফোন এলো, পুরো পাড়ায় সাকুল্যে ওইটিই। সুতরাং বাকিদেরও জরুরী ফোন ওখানেই আসতো আর হাঁক পেড়ে ডাকলে তাঁরা পড়িমরি দৌড়ে আসতেন। আস্তে আস্তে ব্যাপারটা সড়গড় হলো, তখন ফোন-বাড়ির লোকের সুবিধে অনুযায়ী দিনক্ষণ আগে থেকে ঠিক করে ফোন আসতো। কিন্তু আমাদের ছোটদের এত ধৈর্য ছিলো না তাই ফোন নিয়ে মাথাব্যথাও ছিলো না।

আর কিছু বছর যেতে মোটামুটি সব বাড়িতে ফোন এসে গেলো - আমরাও ফোনে কথা বলার মতো বড় হলাম। কিন্তু বিশ্বাস করুন, তৎসত্ত্বেও ব্যাপারটা ঠিক ততটা মজার হলো না যতটা ভেবেছিলাম!


Monday, April 3, 2017

খট্‌ -- বাসবেন্দু

উৎস

পুরো ব্যাপারটার শুরুয়াৎ শুক্রবার সন্ধে নাগাদ। মানে গত পরশু। সময়টাও মনে আছে কমলেশের বিলক্ষণ - আটটা পনেরো। সাতটা পঁচিশের আপ কাটোয়াটার ফার্স্ট স্টপেজ চন্দননগর, পরেরটাই কমলেশের। ট্রেন থেকে নেমে, একটা চা খেয়ে, ভাঁড়টা লাইন পার করে ফেলে, “এই নামলাম... কিছু আনতে টানতে হবে?” গোছের কথা অনুপমাকে ফোনে জিজ্ঞেস করতে করতে প্ল্যাটফর্মটা পার করে অটোয় উঠতে খুব বেশি হলে মিনিট বারো সময় নেয় বিয়াল্লিশের কমলেশ সরকার। এর অবশ্য হেরফের হয়। হয়, যেদিন উৎপলরাও একই ট্রেনে ফেরে। সেদিন দু’রাউন্ড চা চলে সিগারেট সমেত (বেশিরভাগ দিন দামও মেটায় কমলেশ, আক্ষেপহীন), তারপর নিরুপমদা আর উৎপল এক নম্বর প্ল্যাটফর্মের দিকে হাঁটা দেয়, যেদিকটা সাইকেল গ্যারেজ। কমলেশ দু’নম্বর বরাবর সোজা হাঁটে, “এই নামলাম... কিছু আনতে টানতে হবে?” বলতে বলতে, স্বাভাবিক। গত পরশুও এর’মই একটা দিন ছিলো। তফাতের মধ্যে, কমলেশের খেয়াল ছিলোনা অটোর জন্য আগলে রাখা খুচরো পাঁচ টাকা কমলেশ বাছাই করা সল্টেড বাদামে খরচ করে ফেলেছিলো এবং চায়ের তিন টাকা দিয়ে, “এই নামলাম... কিছু আনতে টানতে হবে?” বলবার সময়ও কমলেশের ঘুণাক্ষরেও মনে পড়েনি পকেটে সর্বনিম্ন টাকার পরিমাণ একশ’, আর স্টেশন থেকে কমলেশের টু বি এইচ কে ফ্ল্যাটের দূরত্বমূল্য সাত। সাতটাকা মাত্র। অতএব, গলির মুখে নেমে, অটোর শেষ যাত্রী কমলেশ, বুকপকেটে হাত দিয়েই উপলব্ধি করে সল্টেড বাদামের কিছুটা দাঁতের গভীর ফাঁকে আটকে আছে যেখানে জিভ পৌঁছোয় না। সুতরাং কমলেশ, রাদার সল্টেড বাদামের অবশিষ্টাংশ উদ্ধাররত কমলেশ, অটোচালকের সাথে নিম্নলিখিত কথোপকথনে লিপ্ত হয়:

অ: “কি হোলো দাদা কি খুঁজ্জেন?”


Monday, March 27, 2017

হোক পলায়ন -- দিদিমণি

উৎস
কথায় বলে, ‘চাচা, আপন প্রাণ বাঁচা’। আমার কিন্তু কথাটা খুব নিম্নমানের মনে হতো। কোনো বিপদে পড়ে শুধু আপন প্রাণ বাঁচিয়ে পরিস্থিতি থেকে পেছন ফিরে পালাবো এরকমটা কখনো ভাবিনি। কিন্তু আজ যে ঘটনার কথা বলবো, তা আমার এই আদর্শের মাথায় প্রকাণ্ড ঘা মেরেছিলো। টিভি-সংবাদপত্রে আজকাল আমরা প্রায় রোজই mob-fury দেখে দেখে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। হয়তো অনেকেরই জীবনে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাও হয়েছে। তাঁরা জানেন, যে উত্তেজিত জনতার নির্দিষ্ট কোনো চেহারা থাকেনা বলে, মানুষের ভিড়ে অনেকেরই অন্তর্গত পশুত্বটা সহজে প্রকাশ হয়ে পড়ে। যখন দেখেছি স্কুল-কলেজ-অফিসে স্টাফদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্দী করে রেখে বিক্ষোভ প্রদর্শনের নামে নারকীয় অত্যাচার-মারধোর-প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ধ্বংস-অপমানজনক গালিগালাজ-অঙ্গভঙ্গি - তখন ভেতরটা শিউরে উঠেছে। জনতার সমবেত আক্রমণে কর্তৃপক্ষ অসহায় আত্মসমর্পণ করেছেন আর বাকিরা টেবিল বা ডেস্কের তলায় লুকিয়ে রেহাই পেয়েছেন বা যে কোনো উপায়ে পালিয়ে সে যাত্রা কোনওমতে বেঁচেছেন।

কল্পনায় ভাবার চেষ্টা করেছি এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে আমি কি করবো। ভেবেছি, যা হবে দেখা যাবে। যেভাবে হোক, বিপদ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমার এই ভাবনাটা সেদিন আর কল্পনার পর্যায়ে থাকলো না। কয়েকবছর আগের ঘটনা, যখন পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের কার্যালয় থেকে একটি পেশাগত মিটিং সেরে বেরোচ্ছিলাম। অনেকক্ষণ ধরেই বাইরে থেকে একটা সম্মিলিত কোলাহল কানে আসছিলো। কনফারেন্স-রুমে থাকায় কিছুই বুঝিনি। মিটিং-শেষে বেরিয়ে দেখলাম, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের বিল্ডিং এর সামনে প্রায় হাজার খানেক ছেলেমেয়ে। কান পাততে জানা গেলো - এঁরা বেসিক-ট্রেনিং-প্রাপ্ত বেকার ছেলেমেয়ে, যাঁরা প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন, কিন্তু প্রাইমারি-টিচার্স-ট্রেনিং-ইন্সটিটিউট উত্তীর্ণ। সে কারণে এঁদের দাবি ছিলো এঁদেরকে চাকরির নিয়োগপত্র দিতে হবে। অনেকের এমনও দাবি, যে অনেক নেতা-মন্ত্রীই নাকি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে এঁদের থেকে লাখ-লাখ টাকাও নিয়েছেন। এখন তাই তাঁরা বিক্ষোভে ‘মজা’ দেখাতে সম্মিলিত হয়েছেন আর প্রাথমিক শিক্ষা-পর্ষদের ভবন ঘেরাও করেছেন। এখন আর ভবন থেকে কাউকে বেরোতে দেওয়া হবেনা এবং ‘পজিটিভ রেসপন্স’ না পেলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলন (অর্থাৎ ভাঙচুর, মারধোর, অগ্নিসংযোগ) শুরু করবেন।


Sunday, March 26, 2017

Qualia vs. Noumena 1 -- Sambita

Click On pics for full-screen view.


1.“The Yell” 2015
Acrylic and spray paint on craft paper.
Collage on newspaper.
Dimensions: 27 X 43 in

Monday, March 13, 2017

পিতামহের প্রতি -- রাজীব


উৎস


পিতামহ,
তোমার ক্রোধাগ্নি ছড়িয়ে পড়ুক
নক্ষত্রের শিরা উপশিরায়।
মহাকাশের নাভিমূলে ফুটে উঠুক
একান্নটি একান্নবর্তী সংসারের পৃথিবী।
প্রথম পঞ্চাশটিতে থাক শান্ত শ্বেত শুভ্র মনুষ্যকুল।
আর একান্নতম গ্রহটি হোক কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধস্থল।
কুরু বা পাণ্ডব বুঝিনা, আমি শুধু
সেই জীবন যুদ্ধের সৈনিক হতে চাই।

শিলুমাসি -- গঙ্গোত্রী

উৎস
শিলুমাসির গল্প এখনও মনে পড়ে যখন ঘরে থাকতে ইচ্ছে করেনা, তখন।
আমার যখন বছর পাঁচেক বয়স তখন শিলুমাসি খুব আসত আমাদের বাসায়। আমাকে তেল মাখিয়ে চান করিয়ে, খাইয়ে দাইয়ে তারপর যেত। আর এর ফাঁকে ঝুড়ি ঝুড়ি গপ্পো শুনতাম আমি, মাসির মুখে। মাসি আমাদের কেমন একটা দুঃসম্পর্কের আত্মীয় হয়। নানান গপ্পের মধ্যে একটি দু’টি আমার আজও মনে পড়লে গা কেমন শিউরে ওঠে...

যাযাবর এসেছিলো সেবার শীতে শিলুমাসিদের গ্রামে।

"যাযাবর কি মাসি?"
"ঘুরে বেড়ায় তারা দেশে বিদেশে, কখনো এক জায়গায় থাকে না, অনেক রকম জাদুটোনা জানে তারা..."

অল্পে আমার কৌতূহল ক্ষান্ত হয় না, মাসিও আমার সব প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিতে থাকে।

সন্ধ্যে বেলা তারা নানা রকম খেলা দেখাতো, পয়সাও পেত গ্রামের লোকদের কাছ থেকে। কামু খেলা দেখতে যেত প্রায়ই, দিনের বেলাতেও মাঝে মধ্যেই চলে যেত, ওই দলের লোকেদের সাথে গিয়ে ভিড়তো।


Monday, March 6, 2017

মাশরুম -- তনুজিৎ

উৎস

ঘুম তখন ভাঙতে যাবে। খুব অল্প সময়ের জন্যে, তখনও আমি ঘুমের মধ্যে, মনে হলো কেউ খাটটা খুব জোরে নাড়াচ্ছে; আমি একটা খুব অদ্ভুত গোঙানির মত শব্দ করে জেগে উঠি, ধড়মড় করে। আচমকা খুব নড়ছে ঘরটা। প্রথম কয়েক মুহূর্তের জন্যে কিছু বুঝে উঠতে পারিনা যে কি হচ্ছে। অসময়ে ঘুম ভাঙলে আমার চোখ খুব জ্বলে আর জল বের হয়, দেখতে অসুবিধা হয়। বিছানা থেকে উঠে মেঝেতে পা দিয়ে যখন দাঁড়াতে যাই তখন জোরালো ধাক্কার মতো পড়ে যাই। যখন প্রথম সাঁতার শিখেছিলাম, তখনো পায়ের তলায় যেরকম একটা অনুভূতি হয়েছিলো, যেটা ঠিক মাটির মতো নয়, সেরকম একটা ভূমিহীন অনুভূতি হলো। আমি কখনও ভুত দেখিনি, তবে মাঝেমাঝে যখন চেনা অন্ধকার কোনাটায় একটা অচেনা বস্তুর অবয়ব কয়েক মুহূর্তের জন্যে দেখি, তখন এক ধাক্কায় একটা ভয় আসে; মাথার ভিতর এক ধাক্কায় রক্ত আসে, গরম করে দেয়, বুকের ভিতর ধাক্কাটা খুব জোর শুরু হয়, হাত-পা বেশ অকেজো অসাড় হয়ে আসে। সেটাও কেটে যায়, যখন দেখি অচেনা বস্তুটা আসলে একটা চাদর বা অন্যকিছু। অল্প সময়ের জন্যে ওরকম একটা হঠাৎ ভয় এলো। কিছুক্ষণ মেঝেতে ওইভাবেই পড়ে রইলাম। আমি যে শহরে থাকি, সেখানে খুব বৃষ্টি হয়, আর দূষণটাও বেশি, তাই

Monday, February 27, 2017

মূল কথা -- সুনন্দ

উৎস
গ্রামের পশ্চিম দিকে, খালপাড়ের পরের জমিটার ঠিক মাঝখানে, একটা বিশাল বটগাছ আছে। এককালে ওখানে ফিস্ট হতো, বাগালের দল জিরতো দুপুরের রোদে পিঠ রেখে। এখন আর ওসব হয় না অনেকদিন। ছেলে-ছোকরারা খেলতে যায়, ঝুরিতে তক্তা বেঁধে দোল খায়, আর মাঝেমাঝে ঝিমিয়ে পড়লে গাছের একদিকে এক বড় গর্তের মধ্যে বসে থাকা ধীরু পাগলের চুলে ঢিল বেঁধে আর গায়ে মাটি চাপিয়ে মজা দেখে। পাগল কিছু বলে না। খুব বেশি জ্বালালে, রক্তচক্ষু করে চীৎকার করে ওঠে, “কই শেকড়টা?”

যারা জানে না, তারা খুব ভয় পেতে পারে, গ্রামের ছেলেরা কিন্তু একটুও ভয় পায় না ধীরুকে।  প্রতিদিন কোন না কোন বাড়ি থেকে ধীরু পাগলের খাবার যায়। কোনদিন ভুলে গেলেও ধীরু কিছু বলে না, আওয়াজও করে না। তবু সবাই মনে রাখার চেষ্টা করে।
আজ আমার পালা। দশ কিলোমিটার দূরের দোকান থেকে দুপুরে বাড়িতে ভাত খেতে এসেও শান্তি নেই। বেরনোর সময় বউ হাতে ভাতের টিফিন বাক্স ধরিয়ে দিলো। ফেরার পথে দিয়ে যেতে হবে পাগলের সামনেগজগজ করতে করতে এই এখন ওই দিকেই হাঁটছি।
ধীরু পাগলা চিরকাল পাগল ছিল না

Monday, February 20, 2017

লগবুকে শেষ এন্ট্রি -- অরুণাচল


উৎস

বন্দরে পৌঁছে গেছে মায়াবী জাহাজ
বাতিল কামানে আজ তোপ দাগো। একশ’টা নীরব আওয়াজ
ছিঁড়েখুঁড়ে দিয়ে যাক নাবিকের লুকোনো বাসনা
সবাই জানুক তবে, আমরা যে আর ভাসবো না।
তার পরে বৃষ্টি শুরু হোক
ধুয়ে যাক তমসুক ... মুছে যাক সমস্ত কুহক
নষ্ট এই সময়ের সমস্ত স্মৃতি গায়ে মেখে
বাতাসেরা নতমুখে জাহাজের ভিজে যাওয়া ডেকএ
এখুনি উড়িয়ে দেবে যাবতীয় শোকগাথাগুলি
ছায়া শুধু রয়ে যাবে। থেকে যাবে অনন্ত গোধূলি।


মধ্যম পুরুষ -- শ্রীময়


ল্যাঙ্গুয়েজ ডে! খায় না মাথায় দেয়? হোয়াট হ্যাপেন্ড এই দিনটাতে? এই তো এতো গুলো 'ডে' গেলো হুড়মুড় করে, সেই লিস্টে তো এটা ছিল না! সত্যি মাইরি! গোটা ফেব্রুয়ারি মাসটাই এই সব আলবাল ডে'তে চলে গেলো! হুজুগে পাবলিক সব!

যাকগে ছাড়ুন। এসব নিয়ে ফালতু টাইম ওয়েস্ট করে লাভ নেই। আপনারও অনেক কাজ আছে, আমার তো আছেই... তারচেয়ে বরং আসুন একটু আড্ডা মারা যাক। তবে হ্যাঁ, আগেই বলে রাখছি আমি কিন্তু ওই পেজ-থ্রি গসিপ টসিপ-এ নেই। ওসব আমি একদম টলারেট করতে পারিনা। কি বলছেন? টপিক? ধুউউউরর... আড্ডা দিতে বসে টপিক নিয়ে ভাবলে চলে!! যা মনে আসছে, তাই দিয়েই স্টার্ট করুন। কিচ্ছু মনে আসছে না? কিস্সু না! কে রে ভাই! আচ্ছা দাঁড়ান, আমি এট্টু ভেবে দেখি...

মিল গিয়া! আচ্ছা আপনি ছোটবেলায় কোন স্কুলে পড়তেন? না, মানে হোয়াট আই'ম ট্রাইং টু নো ইজ- ইংলিশ মিডিয়াম না বেঙ্গলি মিডিয়াম? আমি কিন্তু পাতি বেঙ্গলি মিডিয়াম। সিক্স-এ প্রথম ক্লাসে এ, বি, সি, ডি পড়ানো হয়েছিল। লার্নিং ইংলিশ, পাতলা করে বইটা ছিল... একদিনেই সব পড়ে ফেলেছিলাম। আসলে আমি বরাবরই ইংলিশে স্ট্রং। সব সময় হায়েস্ট না পেলেও বেস্ট ফাইভে থাকতাম। এখনো ক্লিয়ারলি মনে আছে, ইংরেজির জন্য একটা আলাদা কপি করেছিলাম। দ্যাট ওয়াজ মাই সিঙ্গেল কপি, যেটা ব্রাউন পেপারে মলাট দেওয়া ছিল। মলাটের ওপরে সাদা কাগজ হাফ সার্কেল করে কেটে, তার পেরিফেরি বরাবর লেখা ছিল "ইংলিশ ফেয়ার কপি ফর মিস্টার এস.এস.রে"। হাফ সার্কেল থেকে তিন আঙ্গুল নিচে আবার একটা কাগজ স্কোয়ার করে কেটে, তার ভেতরে লিখেছিলাম নেম, রোল নাম্বার, ক্লাস।

Monday, February 13, 2017

Midday Meal -- Subhajit


Though conceived in 1995 and implemented in 2001, the necessity for a nation-wide Midday meal scheme in schools for children suffering from malnutrition has been there even in pre-independence era. Though designed to be a supplementary program, midday meal has since proved to be an attraction for children and a motivation for parents to send their kids to school.

Subhajit takes his lens to the heart of this - enjoy the story....

Monday, February 6, 2017

কবি-জন্ম -- বিবস্বান

উৎস
ছেলেটিকে সবাই বলতো বিষণ্ণ নাস্তিক
আর মেয়েটি প্রতি সপ্তাহে দক্ষিণেশ্বর
ওদের কিভাবে যে আলাপ হলো,
গাছেরা অবাক
হাওয়ারা ফিসফিসিয়ে বললো,
শুনেছ খবর?
এমনকি যে নদীটা প্রত্যেক সপ্তাহে দেখতো প্রণাম ভঙ্গি শান্ত সন্ধেতারার


সেও চমকে উঠলো এমন, লোকে ভাবলো
অসময়ে জোয়ার
ও! বলা হয়নি বুঝি! মেয়েটির নাম সন্ধেতারা


আর ছেলেটির?

গল্পে গল্পে রাতের ওপর মায়ার আলো
আলোয় আলোয় শুদ্ধ স্বরে রেওয়াজ


ওদের মাত্র তেইশ দিনের আলাপ

আলাপ গড়িয়ে চলে বন্দিশের দিকে

Monday, January 30, 2017

শীতের কাছাকাছি -- শৌভিক



আমি একটু আধটু জ্বর করি।
ঘুম থেকে দেরি হয়, টেনে নিই পুরনো চাদর।
ক্রমাচ্ছন্ন। বুঁদ হই।
বই পড়া হয় না। চোখে লাগে। আবার ঘুমিয়ে পড়ি। 

পাহাড়, ঝর্ণা, রেন্ট হাউস, পাথুরে সিঁড়ি। বারান্দার সোজাসুজি লম্বা প্যাসেজ। সার দেওয়া তিনটে ঘর। প্রথম ঘরটায় সবাই বসে আছে। গল্প, হাসি, অন্তাক্ষরী, ফল-ফুল-দেশ-পাখি। ফ্রাইং প্যানে টগবগিয়ে ফুটছে জল। পাহাড়ে বন্‌ধ আজ। লাঞ্চে ডিমসেদ্ধ পাউরুটি, মাখন; চাইলে জেলি। বড়মার ব্যাগ থেকে উঁকি দিচ্ছে গোলমরিচের কৌটো। দিদা বিট-নুনের শিশি সামলায়, একটু সুযোগ পেলেই ঢেলে নিয়ে দৌড় দেব, তক্কে তক্কে আছি। বারান্দায় মা, ছোটমাসি দাঁড়িয়ে আছে। সামনে তাকালে নিচে যাওয়ার সিঁড়ি।

এক-পা নামতেই বকুনি। দু’পা নামলে বিচ্ছু বদনাম। তিন পা এগোলে কানমলার হুমকি। চার ধাপ পেরোলে থাপ্পড়ের প্রতিশ্রুতি। পাঁচ পা নামলে ছেলেধরা...

এরপরও সাহস করে আর এক ধাপ এগোলে খুন খারাপি কিছু একটা হয়ে যাবে, মার গলার আওয়াজ জানিয়ে দিচ্ছে।

আর  ভরসা হয় না।

‘উঠে আয়, উঠে আয়, এক্ষুনি উঠে আয়।’

ফিরতি পায়ে এক দুই...সিঁড়ি গুলো খুব খাড়াই। হামাগুড়ি দিয়ে উঠতে হয়। উপর দিকে মুখ তুললেই মার কড়া দৃষ্টি। সেদিকে চোখ রেখে নামতে গিয়েই হঠাৎ পপাত চ। কপালে একটু লাগলো।

উঠছি। এবার দ্রুত। নইলে আর আস্ত থাকবো না।

Monday, January 23, 2017

একটি মৃত্যু সংক্রান্ত কাহিনী -- তপোব্রত

উৎস
ষোলই জানুয়ারি, সোমবার!

সকাল সকাল যমরাজ সভায় গিয়ে দেখলেন সন্তোষপুরের নিবারণ পাল একটা ছেঁড়া গেঞ্জি আর নীল চেক-চেক লুঙ্গি পরে শুকনো মুখে মোবাইলে ক্যান্ডি ক্রাশ খেলছেন। চিত্রগুপ্ত (মানে ঐ জহর রায় লুক-অ্যালাইক) তাক থেকে রোজকার হিসেব নিকেশের খাতাগুলো নামিয়ে ধুলো ঝাড়ছে আর দুটো যমদূত এক কোণে বসে গুলতানি মারছে।

“কি ব্যাপার? এটা কে?”- নিবারণবাবুকে দেখিয়ে প্রশ্ন করলেন যমরাজ। “স্যার, এনার নাম নিবারণ পাল। কাল রাত্তিরে সিগনাল পেয়ে জোড়া-ব্রিজের পাশের গলি থেকে তুলে এনেছি। বাকি ডিটেল চিত্রবাবু জানেন।”- কান চুলকোতে চুলকোতে বললো এক যমদূত, “আমাদের নাম দু’টো মান্থলি পারফর্মেন্সের খাতায় লিখে নিন, তারপর যাই গিয়ে রেস্ট নিই। মেলা পরিশ্রম হয়েছে।”

আজকাল সিন্ডিকেটের বাজারে এইসব পাতি যমদূতরাও যমরাজকে ভয় পায় না। গম্ভীর মুখে মনে মনে ওদের বাপ-বাপান্ত করতে করতে চিত্রগুপ্ত নাম দু’টো লিখে নিয়ে দু’টোকে বিদায় করলেন। এই জানুয়ারি থেকেই শুরু হয়েছে, এবার ডিসেম্বর অবধি কে ক’জনকে নিয়ে এলো তার ভিত্তিতেই বছরের শেষে ‘যমালয়-শ্রী’, ‘মহাযমদূত’ এইসব পুরস্কার দিতে হবে।

নিবারণবাবু পিটপিট করে ব্যাপারটা দেখছিলেন। যমদূত দু’টো কেটে পড়ার পর গুটিগুটি যমরাজের সামনে এসে একটা সেলাম ঠুকলেন।


ইচ্ছে -- ঐকিক


      - খুব ইচ্ছে করে।
- কি?
- সে জানিনা, শুধু জানি ইচ্ছে করে। ক্যাপসুল লিফটে, গাড়ির মধ্যে, ঘরে, জানালার ধারে, সব সময় ইচ্ছে করে।
- অত ইচ্ছের কি আছে আবার? চুপ করে বোস।
- কিন্তু ইচ্ছেপূরণ না হলে মন খারাপ হয় যে ... তোর ইচ্ছে করে না?
- তোর না শরীর খারাপ? জল খা। কাল জানিস, কি হয়েছে? আমার যে ছোট মাসি জামশেদপুরে থাকে, আরে ... যার বরের ক্যান্সার হয়েছিল ...
- একটু চুপ কর। উত্তর দিবি না, তোর ইচ্ছে করে কি না?
- আমার তোর মত অত বাঁধভাঙা ইচ্ছে-টিচ্ছে করে না বাপু। তোর সবেতেই একটু বেশি বেশি।
- বেশ। এই চুপ করলাম।
- আচ্ছা, ঠিক আছে, আর গোসা করতে হবে না। আমারও মাঝেমধ্যে অল্পস্বল্প ইচ্ছে করে। হল এবার?
- লোকজনের মধ্যে? না আড়াল চাই?
- ধুর! লোকজনের মধ্যে! পাগল নাকি? কেউ না থাকলে ভেবে দেখতেও পারি।
- চল না, এই দেখ, ধারেকাছে কেউ কোত্থাও নেই।
- ধুস! যখন-তখন ইচ্ছে হলেই হয় নাকি?
- হয়। দেখবি?
- ................
- কি হল?
- ......... দেখা।



কয়েক সেকেন্ড পরে জনান্তিকে একটি বায়ুনিঃসরণের শব্দ পাওয়া গেল।

Monday, January 16, 2017

যে ছিলো আমার... -- ঊর্মি

উৎস
     একটা চারকোনা উঠোন, তার দু’টো দিক জুড়ে বাথরুম, কলের পাড়সহ চারটে ঘর। উঠোনের আরেক কোণে একটা ঝাঁকড়া মাথা শিউলি ফুলের গাছ। কলের পাড় ঘেঁষে একটা খুব সরু রাস্তা ঢুকে গেছে পাশের বাড়িতে, কোনো দেওয়ালের বালাই নেই। সেই বাড়ি টপকে আরেকটা বাড়ি পেরোলেই অন্য একটা গলি, ধরে ডানদিকে কিছুটা এগিয়ে গেলেই বড় রাস্তা, বড় রাস্তা ধরে দুটো বাড়ির সামনে দিয়ে ফিরলেই মিঠির বাড়ির দোরগোড়া হয়ে সেই চারকোনা উঠোন। 


About Us | Site Map | Privacy Policy | Contact Us | Blog Design | কথা তো বলার জন্যেই